অবহেলায় মায়ের মৃত্যু: ওএসডি যুগ্ম সচিব আনিসুর

ভরণপোষণ আইনে ব্যবস্থার প্রস্তুতি। মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন, সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ।

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরে সন্তানদের অবহেলায় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে সরকার। বুধবার বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) হিসেবে কর্মরত আনিসুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়।

এর আগে বুধবার সকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ঘোষণা দেন, নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি সামনে আসে যখন রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি একা বসবাস করতেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব এবং আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও বৃদ্ধা মায়ের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, মরদেহ উদ্ধারের কয়েক দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুর সময়কাল নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে এবং ময়নাতদন্তসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত কারণ ও সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং সন্তানদের আইনগত কর্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার কারণে একাকী প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে, যা সামাজিক ও নৈতিক সংকটেরও ইঙ্গিত বহন করে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও ভরণপোষণ আইন কার্যকরের বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।