আকস্মিক ঝড়ে চিলমারী বন্দরে ৪ নৌকা ডুবি

ব্রহ্মপুত্রে অস্বাভাবিক ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আরও কয়েকটি নৌযান, তলিয়ে গেছে সার ও মালামাল।
টুইট প্রতিবেদক: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা বন্দরঘাটে আকস্মিক ঝড় ও অস্বাভাবিক ঢেউয়ের আঘাতে চারটি যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় একটি স্পিডবোটসহ আরও কয়েকটি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে চিলমারীর রমনাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিছু সময়ের মধ্যে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস শুরু হলে ব্রহ্মপুত্র নদে অস্বাভাবিক উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হয়। সেই ঢেউয়ের আঘাতে ঘাটে নোঙর করা নৌযানগুলো ব্লক পিচিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রৌমারী ও কোদালকাটি রুটের দুটি এবং চিলমারী এলাকার দুটি নৌকাসহ মোট চারটি নৌকার তলা ফেটে মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়। নৌকাগুলোতে থাকা প্রায় ৫০ বস্তা ইউরিয়া সার এবং যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
কোদালকাটি থেকে আসা একটি নৌকার মালিক আব্দুর রশিদ জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তার নৌকা ঘাট ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর আগেই নদীতে হঠাৎ বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে নৌকার তলা ফেটে দ্রুত ডুবে যায়। ফলে নৌকায় থাকা সার, ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রমনাঘাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আকস্মিক ঝড়ে ঘাটে বাঁধা চারটি নৌকা ডুবে গেছে। প্রবল ঢেউয়ের কারণে নৌকাগুলো ব্লক পিচিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি একটি স্পিডবোট ও আরও কয়েকটি নৌযানেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, “নদীতে এমন অস্বাভাবিক ঢেউ আগে খুব কমই দেখা গেছে। বাতাসের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকলেও ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল বিস্ময়কর।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার মালিক ও শ্রমিকরা ডুবে যাওয়া নৌযান এবং মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ব্রহ্মপুত্র নদের এই আকস্মিক বৈরী পরিস্থিতি নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীবন্দর এলাকায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নিরাপদ নোঙর ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নৌযান চলাচলে সতর্কতা জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।






