জিয়াউর রহমানের শাহাদত মৃত্যু বার্ষিকী আজ

বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা

টুইট ডেস্ক: আজ শনিবার স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দিশাহারা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন বলে বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটির নেতারা দাবি করছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা সূচনা করেছিলেন।

আট দিনের কর্মসূচি

শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করছেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজ ভোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে জাতীয় নেতারা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে সেখানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ফখরুলের বাণী

শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠা জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তিনি দাবি করেন, জিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ সুদৃঢ় হয়েছিল।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী বিএনপির জন্য শুধু আবেগের নয়, সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দলটি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনকে সামনে আনতে চাইছে।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের তালিকাতেও তার নাম স্থান পেয়েছিল।