‘মাসুদ রানা’ ঘিরে বড় প্রত্যাশা

পাঁচ বছরের বাধা পেরিয়ে ঈদে মুক্তি, নির্মাতার দাবি ‘বাংলাদেশের জেমস বন্ড’
টুইট প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষা, করোনাকালের স্থবিরতা, শুটিং জটিলতা ও প্রশাসনিক অনুমতির নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে মুক্তির পথে আলোচিত গুপ্তচরভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাসুদ রানা’। আসন্ন ঈদুল আজহায় বড় পর্দায় আসছে ছবিটি। মুক্তির আগে নির্মাতা ও প্রযোজকদের বক্তব্যে স্পষ্ট, ছবিটিকে ঘিরে এবার ঢালিউডে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছবিটি নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান প্রযোজক আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, চলতি ঈদের সবচেয়ে আলোচিত ও বড় পরিসরের সিনেমা হতে যাচ্ছে ‘মাসুদ রানা’। তাঁর ভাষায়, ছবিটির নির্মাণব্যয় ও কাহিনির ব্যাপ্তি এত বড় ছিল যে এককভাবে প্রযোজনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ সালেই ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। তবে কোভিড পরিস্থিতি, দীর্ঘ লকডাউন, কারিগরি জটিলতা এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় শুটিংয়ের অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় নির্মাণকাজ বারবার পিছিয়ে যায়। ফলে প্রায় পাঁচ বছর পর ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত হলো। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকেও ছাড়পত্র পেয়েছে সিনেমাটি।
চলচ্চিত্রটিতে ‘মাসুদ রানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাসেল রানা। তিনি মূলত জনপ্রিয় রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘কে হবেন মাসুদ রানা’র বিজয়ী হিসেবে এই চরিত্রে সুযোগ পান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চরিত্রটির জন্য দীর্ঘ সময় শারীরিক সক্ষমতা, অ্যাকশন প্রশিক্ষণ ও মানসিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর মতে, বইয়ের পাতার ‘মাসুদ রানা’র মতোই সিনেমাটির পথচলাও ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, ‘মাসুদ রানা’ মূলত বাংলাদেশের নিজস্ব ‘জেমস বন্ড’। সেই ভাবনা থেকেই আন্তর্জাতিক মানের স্পাই থ্রিলারের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। অ্যাকশন, বিস্ফোরণ, গাড়ি ধাওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর দৃশ্য নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ট্রেলার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির কিছু দৃশ্য নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে প্রযোজক আবদুল আজিজ স্পষ্ট করে জানান, মূল চরিত্রে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়নি। রাসেল রানাই সব দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। তবে কিছু ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় গুপ্তচর চরিত্র ‘মাসুদ রানা’কে বড় পর্দায় তুলে আনা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল দর্শকের প্রত্যাশা। বিশেষ করে কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট চরিত্রটি কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয়।
ফলে সিনেমাটির সাফল্য শুধু বাণিজ্যিক দিক থেকেই নয়, ঢালিউডে আধুনিক গুপ্তচরধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন মানদণ্ডও তৈরি করতে পারেন।






