১০০ দিনে সরকারের ‘অর্জন’ তুলে ধরলেন মাহ্দী আমিন

গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দাবি।
টুইট প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনেই রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার “লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা” জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করছে।
সোমবার (২৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ থেকে সরে আসার দাবি’
মাহ্দী আমিন বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, সরকার জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রচলিত “ভিআইপি সংস্কৃতি” থেকে বেরিয়ে এসেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন জনগণকে আর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় না; বরং প্রধানমন্ত্রী নিজেই মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সড়কে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উদাহরণ তুলে ধরেন।
দুর্নীতি দমন ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আলোচিত এস আলম গ্রুপ–এর ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ৩টির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও জানান মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টে পুনরায় “ইসরায়েল ব্যতীত” শব্দবন্ধ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীকেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর তথ্য তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। এছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
রান্নার জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে “এলপিজি কার্ড” চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর খাল খনন কর্মসূচি পুনরুজ্জীবনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী “অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ” চালু এবং প্রায় দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিকল্পনার ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে “গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা” কর্মসূচির আওতায় ২৫০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানানো হয়।
জুলাই আন্দোলন ও বিচারব্যবস্থা
ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষায় “জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি আইন” পাসের কথা উল্লেখ করেন মুখপাত্র। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠানোর তথ্যও দেন তিনি।
বিচারব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার দৃষ্টান্ত।
সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও সন্তুষ্ট সরকার
মাহ্দী আমিন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রেকর্ডসংখ্যক ৯৪টি বিল পাস হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ আসনের তৃতীয় সারিতে বসে প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






