ঢাকাকে বেইজিংয়ের সঙ্গে তুলনা

স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনার কথা বললেন ডাকসু ভিপি।
টুইট ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সঙ্গে তুলনা করে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন ডাকসুর ভিপি। তিনি বলেছেন, দ্রুত নগরায়ণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ও দীর্ঘস্থায়ী যানজটের মতো সংকট মোকাবিলায় ঢাকাকে ধাপে ধাপে “স্মার্ট সিটি” মডেলের দিকে এগোতে হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় নগরীগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত ডিজিটাল সেবা ও তথ্যভিত্তিক নগর পরিচালনা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে নাগরিকসেবা, নিরাপত্তা নজরদারি, পরিবহন ও নগর ব্যবস্থাপনা একই প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
তার ভাষায়, “ঢাকার সমস্যা শুধু অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা নয়; পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ছাড়া এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে সমাধান করা সম্ভব নয়।”
ডাকসুর ভিপি বলেন, রাজধানীর যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গণপরিবহন সংকট সমাধানে সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি নগর পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে উদ্ভাবনী নগর সমাধান তৈরি করা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
ভিডিও বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশ বিষয়টিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, ঢাকার বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দুর্বল নগর প্রশাসন ও সমন্বয়হীন উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে বেইজিংয়ের মডেল বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, “স্মার্ট সিটি” ধারণা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বা ডিজিটাল সেবা নয়; এর সঙ্গে পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, দক্ষ গণপরিবহন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নাগরিকবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কৃতিও জড়িত।
ফলে ঢাকাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য।






