পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ: টেস্টে নতুন যুগের সূচনা বাংলাদেশের

সিলেট টেস্টে ৭৮ রানে জয়, সিরিজ ২-০
টুইট ডেস্ক: ধসে পড়া ব্যাটিং, ভঙ্গুর জুটি, বিশৃঙ্খল বোলিং ও এলোমেলো ফিল্ডিংয়ে ডুবে থাকা পাকিস্তানের বিপরীতে সাবলীল বোলিং, শক্তিশালী জুটি ও অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে উজ্জ্বল বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এই বিপরীত চিত্রের প্রতিফলন ঘটল সিলেটে। স্বাগতিক বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয় পেয়ে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে।
এটি শুধু সিরিজ জয় নয়, বাংলাদেশ টেস্ট ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে। পাকিস্তানকে নিজ মাঠ ও প্রতিপক্ষের মাঠে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করা একমাত্র দল এখন বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের কোনো শক্তিশালী দল এ কাজটি করতে পারেনি।
শেষ দিনের নাটকীয়তা
জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান, বাংলাদেশের দরকার ছিল তিন উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ানের লড়াকু ব্যাটিংয়ে কিছু সময় আশা জেগেছিল। কিন্তু সকালে খেলা শুরুর পর মাত্র ১১.২ ওভারেই সব শেষ। পাকিস্তান যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৪২ রান, হারিয়েছে তিন উইকেট।
নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। সাজিদ খানকে আউট করে ধসের শুরু করেন তাইজুল। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে রিজওয়ান (৯৪) গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে পাকিস্তানের স্বপ্ন শেষ। খুররাম শাহজাদের ক্যাচ ধরে তানজিদ হাসান তামিম যখন উইকেট তুলে নেন, তখন গোটা মাঠ উল্লাসে ফেটে পড়ে।
তাইজুলের অনন্য কীর্তি
এ ম্যাচে তাইজুল ইসলাম ১২০ রানে ছয় উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ১৮তম পাঁচ উইকেট বা তার বেশি শিকারের কীর্তি। পেস বিপ্লবের পাশাপাশি স্পিনারদের এমন অবদান বাংলাদেশের টেস্ট শক্তির আরেকটি স্তম্ভ।
পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের আধিপত্য
দুই বছর আগে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ জয়ের পর এবার নিজ দেশে একই ফল। চার টেস্টেই বড় ব্যবধানে জয়—রাওয়ালপিন্ডিতে ১০ ও ছয় উইকেটে, এবার ঢাকায় ১০৪ ও সিলেটে ৭৮ রানে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ও মানসিক দৃঢ়তায় সব বিভাগেই পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০ (মুশফিকুর রহিম ১৩৭, লিটন দাস ৬৯)
পাকিস্তান: ২৩২ ও ২৩৬ (রিজওয়ান ৯৪, তাইজুল ৬/১২০)
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: লিটন দাস।
সিরিজসেরা: মুশফিকুর রহিম।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-০।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের নেতৃত্বে বাংলাদেশ টেস্ট দল এখন র্যাংকিংয়ে উন্নতি, ধারাবাহিকতা ও জেতার জেদের সমন্বয় ঘটিয়েছে। পুরো দেশ এই দলের ওপর গর্বিত। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই সোনালি অধ্যায় নতুন প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাবে।






