সেনাবাহিনীর ছোঁয়ায় বদলে গেছে পাহাড়ের জীবনচিত্র

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সীমান্ত সড়ক উদ্বোধন, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। নৌপথের কষ্ট পেরিয়ে এবার সহজ পথে হাঁটছে পাহাড়বাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবানের থানচি উপজেলার মদক এলাকায় দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সড়কপথ চালু হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের বাস্তবায়নে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সীমান্তবর্তী ৭০ নম্বর পিলার অতিক্রম করে ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম গাড়িযোগে বড় মদক এলাকায় পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মদক এলাকায় প্রায় ৪৫০টির বেশি পরিবার বসবাস করে। এতদিন থানচি থেকে নৌপথই ছিল একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সড়ক চালু হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মদক এলাকার পাড়া কারবারি সাচিং ফ্রু জেরী বলেন, আগে অসুস্থ রোগী নিয়ে থানচি যেতে অনেক কষ্ট হতো, বর্ষাকালে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। এখন সড়ক হওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হবো।
স্থানীয় শিক্ষার্থী লিকং মার্মা জানান, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বড় মদক এলাকায় সড়ক নির্মাণ হওয়ায় মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে এলাকায় একটি ফুটবল মাঠ নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনী। পাহাড়ি পরিবেশে এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
পরিদর্শনকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আয়োজিত ফুটবল খেলা উপভোগ করেন। পাশাপাশি সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের-আল-হাসান বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।







