পুতিনের চীন সফর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক বার্তা

ট্রাম্প-পরবর্তী বৈশ্বিক সমীকরণে বেইজিংয়ের কৌশল আরও স্পষ্ট

টুইট প্রতিবেদক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রত্যাবর্তনের পর বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে যে পুনর্বিন্যাস দেখা যাচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চীন ও রাশিয়া–এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি পশ্চিমা জোটের বিপরীতে বিকল্প শক্তি কাঠামো গঠনের একটি কৌশলগত ইঙ্গিত। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও মস্কো ও বেইজিংয়ের সমন্বয় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ়

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দীর্ঘদিন ধরেই বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। পুতিনের সফর সেই নীতিকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), জ্বালানি সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং ডলারনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা বাড়ছে। ফলে ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লকের জন্য এটি নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কারণ ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির কারণে ঐতিহ্যগত পশ্চিমা জোটে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে বেইজিং ও মস্কো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের সম্ভাব্য টানাপোড়েনের সময় চীন চাইছে নিজেকে স্থিতিশীল বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে। আর রাশিয়া পশ্চিমা চাপ মোকাবিলায় চীনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত?

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুতিনের এই সফর বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় বাস্তবতাকে সামনে এনেছে,বিশ্ব এখন ধীরে ধীরে দুই ভিন্ন শক্তিকেন্দ্রিক বলয়ে বিভক্ত হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে চীন-রাশিয়াকেন্দ্রিক নতুন জোট।

এই প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের কৌশলগত সক্রিয়তা ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় এর প্রতিফলন আরও স্পষ্ট হতে পারে আগামী মাসগুলোতে।