হজ্বেরছায়ায় থেমেছিল হামলার পরিকল্পনা

উপসাগরীয় সতর্কবার্তায় ইরান ইস্যুতে সাময়িক পিছু হটেন ট্রাম্প।

টুইট প্রতিবেদক: হজ্ব মৌসুমকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উপসাগরীয় মিত্রদের কূটনৈতিক চাপ ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেন,হজ্ব চলাকালে ইরানে হামলা শুরু হলে সৌদি আরবজুড়ে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এতে লাখো হজযাত্রীর নিরাপত্তা, আকাশপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ত।

মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার শঙ্কা

কর্মকর্তাদের ভাষ্য ছিল, পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার সময় সামরিক অভিযান চালালে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও স্বীকার করেছেন, প্রেসিডেন্টকে সম্ভাব্য “সুনামগত ক্ষতি” সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল।

প্রতি বছর সৌদি আরবে প্রায় ১০ লাখ বিদেশি হজযাত্রী অংশ নেন। চলতি বছরের হজ শুরু হওয়ার কথা ২৪ মে, যা ছয় দিনব্যাপী চলবে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ মুসল্লি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে শুধু সৌদি আরব নয়, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোতেও তীব্র চাপ তৈরি হতো। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া থেকে আগত হজযাত্রীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

“হজ্বের পর ফের উত্তেজনা”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হজ শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র কখনো কখনো কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালিয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি বলেছেন, কাতারের আমির, সৌদি যুবরাজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেন।

উপসাগরে বাড়ছে অস্থিরতা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে জ্বালানি বা বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে।

বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধের প্রভাবে ইতোমধ্যেই তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের সামনে নতুন বাস্তবতা

প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার হামলা প্রত্যাশিত কৌশলগত ফল আনতে পারেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আল খামেনি নিহত হওয়ার পরও তেহরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়েনি।

বরং তার ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান এখনো বড় পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকেরা গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন।