নরেন্দ্র মোদিকে ‘সাপুড়ে’ ব্যঙ্গচিত্রে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

ঔপনিবেশিক মানসিকতার অভিযোগে নরওয়ের পত্রিকা ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিশ্ব ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সাপুড়ে’ হিসেবে চিত্রিত করে নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক আফটেনপোস্টেন একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মোদির নরওয়ে সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকাশিত এই চিত্রকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ব্যঙ্গচিত্রটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ঐতিহ্যবাহী সাপুড়ের ভূমিকায় দেখানো হয়েছে, যেখানে সাপের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে জ্বালানি সরবরাহের নল। একই সঙ্গে পত্রিকাটির মতামত নিবন্ধে শিরোনাম দেওয়া হয় ‘একজন চতুর ও সামান্য বিরক্তিকর ব্যক্তি’। প্রকাশের পরপরই সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সমালোচকদের একটি বড় অংশের দাবি, এই ধরনের উপস্থাপন দক্ষিণ এশিয়াকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নয়, বরং সাংস্কৃতিক অবমাননার শামিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, ব্যঙ্গচিত্রটি মূলত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে সমালোচনামূলক বার্তা বহন করে। তবে সামগ্রিকভাবে প্রতিক্রিয়ার বড় অংশই নেতিবাচক এবং সমালোচনামুখর।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ সালে স্পেনের একটি পত্রিকায় অনুরূপ ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

ভারত-নরওয়ে সম্পর্ক নতুন মাত্রায়

এদিকে মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে।

১৯৮৩ সালের পর এটি কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সফরের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নীল অর্থনীতি, সমুদ্র গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, মহাকাশ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই দেশই গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী। ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।