শাহ আলী মাজারে হামলা: জামায়াতের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে শনাক্ত; হামলা, ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে মামলা
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও জিয়ারতকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রাসেল ও আজম মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। অন্যদিকে আরমান দেওয়ানকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যায় মাজারের নিয়মিত দর্শনার্থী রেসমি বেগম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের সবাই শাহ আলী থানা এলাকার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে দিবাগত রাতে মাজারে জিয়ারত ও মানতের সময় একদল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মাজার এলাকায় ভাঙচুর করে।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা মাজারসংলগ্ন গাছে বাঁধা লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, মোমবাতির প্লেট ভাঙচুর করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়। এতে কয়েকজন আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়। এমনকি শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া হামলাকারীরা জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুরো ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের ভূমিকা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।






