লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি

কৃষি সংকট ও সীমান্ত ইস্যুতে সরকারের কড়া সমালোচনা এনসিপির।

টুইট প্রতিবেদক: সরকারের বিভিন্ন নীতি, সেবা ও প্রতিশ্রুতির কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকারের দেওয়া সব ‘কার্ড’ বা প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হলে জনগণই একসময় সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাজারে নানা ধরনের সরকারি কার্ড চালু থাকলেও প্রান্তিক কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। কেবল কার্ড বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং সেবার কার্যকারিতা ও মানুষের কাছে তার বাস্তব উপকার পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে কোনো উসকানি বা দাঙ্গার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে ৫ থেকে ৭ শতাংশ বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

তিনি কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি মোট জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষিতে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র ‘প্রাইস কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও দেন।

সেমিনারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহফুজ সাদিসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।