তারাগঞ্জে কার ছায়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা: অফিসে অদৃশ্য শক্তি

দীর্ঘদিন একই উপজেলায় শাহিন। ডাঙ্গিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনিয়ম তদন্ত ঘিরে নতুন বিতর্ক, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাঙ্গিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শেষ হলেও থামেনি বিতর্ক। এবার তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শাহিনকে ঘিরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করায় তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারাগঞ্জের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকের সহযোগিতায় তিনি নিয়োগ ও ঘুষ বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার সুযোগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন।
জানা গেছে, মো. রফিকুল ইসলাম-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গত ২ এপ্রিল কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম, সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হক এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ঋষিকেশ রায়।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মো. মোনাব্বর হোসেন-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, পরীক্ষায় ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, মডেল টেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করানো এবং উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে আসে।
তদন্ত চলাকালেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শাহিনের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন এবং অভিযুক্ত অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়েছেন। এমনকি অধ্যক্ষকে ব্যক্তিগত গাড়িতে কলেজে আনা-নেওয়ার ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন বলেন, “অডিট প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্ত শেষ হলেও ডাঙ্গিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ-কে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশেষ করে একই উপজেলায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন ও তদন্তকালীন ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।






