পেনশন স্কিমে ৩.৭৭ লাখ নিবন্ধন

২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে আওতায় আনার লক্ষ্য।

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জনে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালিত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি স্কিমে অংশগ্রহণকারীদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ এখন প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। একই সঙ্গে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার হার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ সালে যা ছিল ৯.৪ শতাংশ, তা ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটিতে অন্তত একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের আজীবন পেনশন সুবিধা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেন।

সভায় আরও জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে।

নিবন্ধন ও চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম সহজ করতে ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ এবং টেলিটকের মাধ্যমে অর্থ জমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন তহবিল গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ জন্য জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।