প্রক্সি শিক্ষকের জায়গা হবে না: ববি হাজ্জাজ

পাহাড়ের শিক্ষায় কঠোর বার্তা। ‘প্রক্সি শিক্ষকের জায়গা হবে না’: মাঠে নেমে পরিবর্তনের অঙ্গীকার প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের।
বান্দরবান প্রতিনিধি: পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, শিক্ষক সংকট ও তথাকথিত ‘বর্গা শিক্ষক’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বান্দরবানের রেইছা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগামীতে প্রক্সি শিক্ষকের কোনো জায়গা থাকবে না।”
সোমবার (১১ মে) দিনব্যাপী সফরে লামা ও বান্দরবান সদরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ, প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “চাকরি হিসেবে নয়, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে শিক্ষার মান আরও বাড়বে। অতীতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিচে নেমে গিয়েছিল, সেটি বদলে দেওয়া হবে।” প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তবতা সরাসরি স্বীকার করা।
তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকায় ‘বর্গা শিক্ষক’ বা প্রক্সি শিক্ষকের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন তুলছেন। কোথাও কোথাও সহকারী বা বিকল্প ব্যক্তির মাধ্যমে ক্লাস চালানোর ঘটনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট কেবল শিক্ষক অনুপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ আবাসনের অভাব, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের সংকট, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং দুর্বল তদারকি।সব মিলিয়ে একটি জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ফলে কেবল প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, বাস্তবভিত্তিক অবকাঠামোগত সমাধানও জরুরি।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, পাহাড়ের শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে। সেখানে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা তৈরি হয়। তাই প্রতিমন্ত্রীর “চাকরি নয়, দায়িত্ব” মন্তব্যটি স্থানীয়ভাবে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
রেইছা পিটিআইয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি এবং পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. ফজলুল হক ভূঞা।
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বলছেন, কেবল ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা, আকস্মিক পরিদর্শন, স্থানীয় অভিভাবক কমিটির কার্যকর ক্ষমতায়ন এবং উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে “প্রক্সিমুক্ত শিক্ষা” বাস্তবে অর্জন কঠিন হবে।
পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সরাসরি কঠোর ভাষায় বক্তব্য আসায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণাগুলো মাঠপর্যায়ে কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং পাহাড়ের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি ও মানসম্মত পাঠদান পায় কি না।







