তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর নরম

ট্রাম্পের সুর নরম। তাইওয়ান ইস্যুতে নমনীয়তা, শি’র সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতায় জোর।
বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump চীন সফরের আগে তাইওয়ান ইস্যুতে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চীনা প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এতটাই ভালো যে তাইওয়ানে চীনা সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা তিনি খুব কম দেখছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তুলবেন। তিনি বলেন, “শি চান না আমরা তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি করি। এ বিষয়সহ আরও অনেক ইস্যুতে আলোচনা হবে।” একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি না পরিস্থিতি সংঘাতে যাবে। শি জানেন, আমি সেটি চাই না।”
বেইজিং সফরে বাণিজ্য অগ্রাধিকার
এ সপ্তাহেই ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ করপোরেট নির্বাহীরা থাকবেন বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন Elon Musk এবং Tim Cook। সফরের মূল লক্ষ্য হিসেবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চীনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক বার্তা এসেছে। বেইজিং জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল করতে তারা প্রস্তুত।
তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের দ্বৈত বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে “এক চীন নীতি” অনুসরণ করে বেইজিং সরকারকে স্বীকৃতি দিলেও মার্কিন আইনের আওতায় তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা ধরে রাখতে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন কংগ্রেসের একদল সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন।
সিনেটর Jeanne Shaheen–এর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, তাইওয়ানের নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কোনো কূটনৈতিক দর-কষাকষির অংশ হতে পারে না।
অন্যদিকে তাইওয়ানের পার্লামেন্টও সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও এটি সরকারের মূল প্রস্তাবিত বরাদ্দের তুলনায় কম।
ইরান ইস্যুতে নতুন চাপ
চীন সফরের ঠিক আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল চীনে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Guo Jiakun বলেছেন, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য। সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে চীন প্রস্তুত রয়েছে।
নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা
ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল গত অক্টোবরে South Korea–এ। ওই বৈঠকে দুই নেতা চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে এক বছরের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বেইজিং সফরে বাণিজ্য, তাইওয়ান, প্রযুক্তি ও ইরান এই চারটি ইস্যুই হবে মূল আলোচ্য বিষয়। একই সঙ্গে সফরটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।






