তেলবাজারে নতুন অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম।
টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিললে দাম সামান্য কমে আসে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম শুক্রবার একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ মার্কিন ডলার ছুঁয়ে যায়। পরে তা কমে প্রায় ১০০ ডলারের আশপাশে অবস্থান নেয়। সর্বশেষ লেনদেনে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ১০০ দশমিক ৫১ ডলার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াতেই বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তাদের জাহাজে ইরানের ‘উসকানিমূলক হামলার’ জবাবে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে ওয়াশিংটন।
তবে পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে গড়াবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন,যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও।
বাজারবিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে বাড়তি ব্যয় গুনতে হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজারেও।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা একসময় ১২৬ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। বর্তমানে দাম ১০০ ডলারের আশপাশে ওঠানামা করছে।






