আইপিএলে কড়া নজরদারি

‘হানি ট্র্যাপ’ আতঙ্কে খেলোয়াড়দের জন্য নতুন আচরণবিধি জারি।
টুইট প্রতিবেদক: ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর আইপিএলকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার ভাবমূর্তি রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)।
বিশেষ করে ‘হানি ট্র্যাপ’, ব্ল্যাকমেইল ও অননুমোদিত যোগাযোগ ঠেকাতে নতুন আচরণবিধি জারি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে পাঠানো বিসিসিআইয়ের বিশেষ নির্দেশনায় খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বোর্ডের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা অনিরাপদ সাক্ষাতের সুযোগ ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র খেলোয়াড়দের ফাঁদে ফেলতে পারে।
নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, টিম হোটেলে কোনো বহিরাগত ব্যক্তিকে খেলোয়াড়দের কক্ষে নেওয়া যাবে না। পরিবার, বন্ধু কিংবা পরিচিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হলে নির্ধারিত উন্মুক্ত স্থানে করতে হবে। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিসিসিআই মনে করছে, আইপিএলের মতো উচ্চপ্রোফাইল টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ঘিরে আর্থিক ও সামাজিক প্রলোভনের ঝুঁকি বাড়ছে। অতীতে বিভিন্ন দেশে খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে আসায় এবার আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বোর্ড।
শুধু খেলোয়াড় নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও অতিথিদের চলাচলেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ম্যাচ চলাকালে ড্রেসিংরুম, টিম করিডর কিংবা সংরক্ষিত এলাকায় অননুমোদিত প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বোর্ডের ভাষ্য, অতিরিক্ত উপস্থিতি খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও পেশাদার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
এদিকে ধূমপান ও ইলেকট্রনিক সিগারেট ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিসিসিআই। টিম হোটেল কিংবা মাঠের সংরক্ষিত এলাকায় এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা থেকে শুরু করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ফাঁস এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির ঝুঁকি কমাতেই এই কঠোরতা।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ক্রিকেট লিগের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এখন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিসিআই।






