ছয় দিনে ৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স,প্রবাসী আয়ে নতুন গতি

মে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বগতি, গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে।
টুইট প্রতিবেদক: চলতি মে মাসের প্রথম ছয় দিনেই দেশে এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে। এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।অর্থবছরের হিসাবেও শক্তিশালী অবস্থান
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই স্থিতিশীল বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
মাসভিত্তিক ওঠানামা ও রেকর্ড প্রবাহ,এর আগে এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। মার্চে এই অঙ্ক ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার,যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতেও যথাক্রমে ৩০২ কোটি এবং ৩১৭ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বর ও নভেম্বরেও ধারাবাহিকভাবে ৩২২ কোটি ও ২৮৮ কোটি ডলারের প্রবাহ বজায় ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা সুবিধা এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে এই ধারাকে কতটা ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে নজর রাখছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিলেও, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স চ্যানেলের দক্ষতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।






