পরিবহন খাতে যাত্রী প্রতিনিধিত্বের দাবি জোরালো

আইন ও বিধিমালা সংস্কারে যাত্রীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান; শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের আশ্বাস।

দেশের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইন ও বিধিমালায় যাত্রী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের পাশাপাশি যাত্রীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর।

তবে এ ক্ষেত্রে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়,যাত্রীদের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি যাত্রী কল্যাণ সমিতির জনস্বার্থমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সভায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাসভাড়া নির্ধারণ, পরিবহন নীতিনির্ধারণ এবং যাত্রীসুবিধা সংক্রান্ত প্রতিটি ফোরামে যাত্রী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।

তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামত উপেক্ষিত হয়ে আসছে।

এর ফলে বাস্তবতার সঙ্গে অনেক সিদ্ধান্তের অসামঞ্জস্য দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়।

এই অবস্থার পরিবর্তনে নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় যাত্রীদের অংশগ্রহণ জরুরি।সভায় উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উত্থাপিত দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবহন খাতে টেকসই সংস্কার আনতে হলে অংশীজনভিত্তিক নীতিনির্ধারণ জরুরি।

যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে সেবার মান বৃদ্ধি, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাস্তবসম্মত উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে।