দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবার আলো, ৬ হাজারের বেশি শিশুকে টিকা

আলীকদমে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৪ পাড়ায় টিকাদান ও চিকিৎসা ক্যাম্পেইন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: দুর্গম পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাঁচ দিনব্যাপী টিকাদান ও চিকিৎসা ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৪টি প্রত্যন্ত পাড়ায় সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরীসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আলীকদম সেনা জোন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮ হাজার ২৭৮ জনকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫১৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুরুকপাতা ইউনিয়নেই ৭৮৫ জন শিশুকে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হয়।

কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ চলমান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই সমন্বিত উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পাহাড়ের বাস্তবতা ভিন্ন: যোগাযোগ সীমিত, চিকিৎসা অবকাঠামো দুর্বল, আর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাও অনেক সময় নাগালের বাইরে। সেই প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ শুধু একটি টিকাদান কর্মসূচি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় সেবার অন্তিম প্রান্তে পৌঁছানোর একটি বাস্তব উদাহরণ।

হাম-রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, সেখানে এমন ক্যাম্পেইন বহু শিশুর জীবন সুরক্ষিত করে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সেবা, ওষুধ বিতরণ এবং সচেতনতা-সব মিলিয়ে এটি একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি-সহ অন্যান্য দুর্গম উপজেলাতেও এ মডেল সম্প্রসারণ করা গেলে পাহাড়ি জনপদের স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাষ্ট্রের সেবার পরিধি তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনেও বাস্তব প্রভাব ফেলে। আলীকদমের এই উদ্যোগ সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।