নদীদূষণে কঠোর বার্ত

রায়গঞ্জের দুই কারখানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নে?

টুইট ডেস্ক: রাজশাহীর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এলাকায় নদীদূষণ ঠেকাতে অবশেষে হস্তক্ষেপ করল উচ্চ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষণমূলক কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে, যা স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই রুল জারি করে।

আদালত জানতে চেয়েছে,নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষণ চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটির ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধ করে ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না,সে বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রাজাপুর ও ছোনকা এলাকায় অবস্থিত এই দুটি কারখানা দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে।

এতে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে, বদলে গেছে পানির রং, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ইতোমধ্যে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর একাধিকবার জরিমানা করলেও দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এমনকি টেকনিক্যাল কমিটির ১১ দফা নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির করা জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানিতে আদালত পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ,

বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জবাব চেয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই রুল শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়ত্রদেশজুড়ে শিল্পদূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য আরও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

রায়গঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে অবশেষে দূষণ বন্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে এবং নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে।