সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই এখন সময়ের দাবি

বুদ্ধ পূর্ণিমায় বৌদ্ধ বিহারে নাহিদ ইসলামের আহ্বান অহিংসা ও ঐক্যের পথে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই এখন সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা।
শুক্রবার বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে যার ধর্ম-মতে বিশ্বাসী হলেও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা এক ও অভিন্ন। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতাকে ধারণ করেই আমাদের একসাথে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, ঘৃণা ও বিভাজনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সম্প্রীতি।
বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে একসময় অসংখ্য বিহার জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
সেই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক সংহতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও শান্তির বাণী আজও সমান প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বুদ্ধের শিক্ষা মানবতার জন্য দিকনির্দেশনা হতে পারে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে সেই দর্শনকে ধারণ করা জরুরি।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।






