শ্রমিক অধিকার ও দুর্নীতিমুক্ত শাসন ছাড়া উন্নয়ন টেকসই নয়।

মে দিবসের আলোচনায় জোর,জবাবদিহিতা, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান।
টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীতে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি দূর না করলে দেশের উন্নয়ন কোনোভাবেই টেকসই হবে না।
তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান উন্নয়ন ধারাকে স্থায়ী করতে হলে শ্রমিকবান্ধব নীতি ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতির অবসান: সমৃদ্ধ আগামীর স্বচ্ছ অভিযান’ প্রতিপাদ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে সিটিজেনস এগেইনস্ট করাপশন (সিএসি)।
এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক সচিব ও বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা জোরদার করতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন কাঠামো ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে সিএসির চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
এই বৈষম্য দূর করতে কার্যকর শ্রমনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
আলোচনায় আরও বলা হয়, তৈরি পোশাক, নির্মাণ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এসব অধিকার নিশ্চিত না হলে শ্রমখাতের উন্নয়ন ব্যাহত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ। এছাড়া বক্তব্য দেন খোরশেদ আলম খসরু, আবু সালেহ আকন, হাবিবুর রহমান রিজুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা সমাপনী বক্তব্যে বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা এবং শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।






