নয়াপল্টনে মে দিবসের ঢল

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে নেতাকর্মীদের জনস্রোত, তারেক রহমানের অংশগ্রহণে বাড়তি গুরুত্ব।
টুইট ডেস্ক: রাজধানীর নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম।
শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের কেন্দ্রে।
দুপুর আড়াইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই সমাবেশমুখী মানুষের ঢল স্পষ্ট করে দেয় এর ব্যাপ্তি। আয়োজকদের দাবি, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, মঞ্চ, শব্দব্যবস্থা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি বৃহৎ সমাবেশের জন্য দল প্রস্তুত।
এ সমাবেশের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি দীর্ঘদিন পর সরাসরি কোনো শ্রমিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম সরাসরি শ্রমিক সমাবেশে উপস্থিতি, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করছেন সংগঠনের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এতে অংশ নিয়েছেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত মঞ্চে লাল কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং দুই পাশে দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক মাইক।
সকালের ভারী বৃষ্টিতে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও দুপুরের আগেই পানি নেমে যাওয়ায় কর্মসূচি নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ,লাল ক্যাপ, টি-শার্ট, ব্যানার ও ঢোলের তালে স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু শ্রমিক অধিকার ইস্যু নয়, বরং আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির মাঠপর্যায়ের শক্তি ও সংগঠনের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।






