শেয়ারবাজারে লুটপাট হবে না: অর্থমন্ত্রী

সংসদে সংশোধনী বিল ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের আপত্তি নাকচ
টুইট ডেস্ক: বিএনপি শাসনামলে শেয়ারবাজারে লুটপাট হয়নি এবং বর্তমান সময়েও কোনোভাবেই তা হতে দেওয়া হবে না এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’–এর ওপর বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তার দাবি, গত দেড় দশকে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তবে জবাবে অর্থমন্ত্রী আংশিক একমত পোষণ করলেও বিলটি পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই বলে জানান। তার ভাষ্য, বিশেষ কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। পরে কণ্ঠভোটে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
একই অধিবেশনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অনুসরণ না করলে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আসবে না।
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গভর্নরের কার্যক্রম সন্তোষজনক এবং আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে।
অধিবেশনে আরও অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি গভর্নরের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অর্থমন্ত্রী তা নাকচ করেন।
অধিবেশনের শেষ দিকে ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে আলোচিত দুই বিল নিয়েই বিরোধী দলের আপত্তি থাকলেও তাদের আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দলের অভিযোগ ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাস্তবায়ন পর্যায়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।






