ধর্ম রাজনীতির হাতিয়ার নয়: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

কারভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
টুইট ডেস্ক: ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সব ধর্মই মানুষকে কল্যাণ, নৈতিকতা ও মানবিকতার পথে আহ্বান করে-এ শিক্ষা থেকেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। বৌদ্ধ ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ–এর পঞ্চশীল নীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার এই নির্দেশনা কেবল ধর্মীয় নয়, সামগ্রিকভাবে মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণ করলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সরকার এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার চর্চা করতে পারবে।
ধর্ম নিয়ে রাজনীতি না করার বিষয়ে পুনরায় অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার”—এই নীতিতে সরকার অটল। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি নিরাপদ ও সমঅধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত আত্মত্যাগেই দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে-এই ঐক্যই ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার একটি কার্যকর রাজনৈতিক দর্শন। তিনি সবাইকে নিজেদের ‘সংখ্যালঘু’ মনে না করে সমঅধিকারভিত্তিক নাগরিক হিসেবে আত্মপরিচয় গ্রহণের আহ্বান জানান।






