গাজামুখী ফ্লোটিলা আটকালো ইসরায়েল, উত্তেজনা বাড়ছে

মধ্য সমুদ্রে অভিযান, মানবিক সহায়তা নাকি ‘প্রচার’-বিতর্ক তীব্র।
টুইট ডেস্ক: গাজা উপত্যকার উদ্দেশে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে মাঝ সমুদ্রে আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার (২৯ এপ্রিল) গভীর রাতে দেশটির নৌবাহিনী এ অভিযান শুরু করে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বহরের আয়োজকরা।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরে মোট ৫৮টি জাহাজ রয়েছে। ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বহরটি ক্রিট দ্বীপ–এর কাছে অবস্থান করছিল, যা গাজা উপত্যকা থেকে কয়েকশ’ নটিক্যাল মাইল দূরে। এ সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনী বহরটির গতিপথে বাধা দিয়ে পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়।
টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহরের আয়োজকদের প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক ইসরায়েলি নৌ কর্মকর্তা জাহাজগুলোকে সতর্ক করে বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে চাইলে ‘স্বীকৃত পথ’ ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় ফিরে যেতে অথবা আশদোদ বন্দর–এ যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটক করা একটি জাহাজে ‘অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রী’ পাওয়া গেছে, যা বহরটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও এ বিষয়ে ফ্লোটিলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বহরটি স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করে এবং গাজায় প্রতীকী পরিমাণ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়। তবে শুরু থেকেই ইসরায়েল এই উদ্যোগকে ‘প্রচারমূলক’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের মন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সংশ্লিষ্ট ক্রাউডফান্ডিং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে বহরটির অর্থায়ন বন্ধ করা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে হামাস গাজায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও মিসর অঞ্চলটিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, অস্ত্র পাচার রোধে এ ব্যবস্থা জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, এই অবরোধ গাজার সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।






