ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম

বাজেটে বরাদ্দ না থাকলে ১৫ জুন থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।

টুইট প্রতিবেদক: এপ্রিল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত ও অনুদানবিহীন সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণের দাবিতে আবারও জোরালো আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকলে আগামী ১৫ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, যা শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে ধারাবাহিক আন্দোলনের পর ৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অনুদানভুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্তির নির্দেশ দেন। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তা কার্যকর হয়নি। একই দাবিতে গত ৮ মার্চ মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়, তাতেও ফল মেলেনি।

শিক্ষক নেতারা বলেন, ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোতে কোরআন-সুন্নাহ ও আরবি শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়।

শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তরের মতোই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং পরবর্তীতে দাখিল স্তরে অগ্রসর হয়। তবুও এই ধারার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের বাইরে রাখা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার সীমিত সংখ্যক মাদরাসাকে নামমাত্র ভাতা দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই অনুদান থেকে বঞ্চিত ছিল।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলেও ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে সে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়, যা শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে।

শিক্ষক নেতারা অবিলম্বে সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইবতেদায়ি মাদরাসাকে জাতীয়করণের মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অন্যথায় ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দেন তারা।