জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিপর্যস্ত

দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, স্থায়ী সমাধানে সচেতনতার ওপর জোর।
টুইট ডেস্ক: প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়া চট্টগ্রাম শহর নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশের পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে জলাবদ্ধতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নগরজুড়ে পানিতে তলিয়ে মানুষ কার্যত ভাসমান জীবনযাপন করছে, যা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে শহরের বড় অংশ পানিতে ডুবে গেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তিনি এটিকে শুধু চট্টগ্রামের সমস্যা নয়, বরং সারাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘস্থায়ী সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। রাজধানী ঢাকাতেও একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তির কথা তুলে ধরেন তিনি।
সরকারপ্রধান স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন ও জলাধার তৈরির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও খাল পুনঃখনন ও নালা-ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
তবে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, নাগরিক অসচেতনতাকেও বড় বাধা হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, প্লাস্টিক, পলিথিন ও বর্জ্য ফেলে নালা-খাল বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যা দ্রুত পুনরায় ফিরে আসে। এ কারণে জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
হাওরে কৃষকের সংকট, সহায়তার আশ্বাস
এদিকে সংসদে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ হাওরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আবহাওয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহসহ কয়েকটি অঞ্চলের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলাবদ্ধতা ও বন্যা,দুটি সংকটই দেশের নগর ও গ্রামীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। টেকসই সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা ও নাগরিক দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।






