শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করবে সরকার

মুক্তিযুদ্ধের সব শহিদ ও গণহত্যার শিকারদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে উদ্যোগ, স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিতের প্রত্যাশা।
টুইট ডেস্ক: স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও গণহত্যার শিকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি,এ বাস্তবতা স্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ ঘাটতি পূরণে সরকার নতুন করে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে একটি নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত তালিকা শুধু নামের তালিকা নয়,এটি হবে জাতির আত্মত্যাগের একটি প্রামাণ্য দলিল, যা শহিদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে বেসামরিক শহিদ ৩ হাজার ৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনীর ১ হাজার ৫৪১ জন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৮১৭ জন, পুলিশের ৪২৩ জন এবং আনসার বাহিনীর ১ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির কারণে ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা ও বিদেশি তালিকা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়েই বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের নাম।
এদিকে সংসদে কৃষিখাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২ হাজার ৩১১ জন ডিলারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার কারণে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৪৫০ একর জমি আবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
পর্যটন খাতেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এটি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।






