ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি কমবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা

৪ কোটি পরিবারকে আওতায় আনার পরিকল্পনা, স্থানীয় শিল্প ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসার প্রত্যাশা

টুইট প্রতিবেদক: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে রাষ্ট্রের একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি বাড়াবে না; বরং তা কমাতে সহায়ক হবে।

তিনি জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, বাজেটে চাপ কম

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়।

তাই ধাপে ধাপে তথ্য সংগ্রহ করে প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বাজেট সামঞ্জস্য করে কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হবে, ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন। এই পুনরাবৃত্তি কমিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

“টাকা ছাপানো হবে না, তাই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নেই”

মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ কর্মসূচির জন্য নতুন করে টাকা ছাপানো হবে না। বরং সহায়তা পাওয়া মানুষরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াবে।

তার ভাষায়, “ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ গ্রামে-গঞ্জে ঘুরবে, স্থানীয় শিল্পে যাবে—এটাই মূল্যস্ফীতি কমানোর একটি কার্যকর পথ।”

কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষার সমন্বয়

ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড চালুর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষি ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা,উভয় কর্মসূচিকে সমন্বয় করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তরের পরিকল্পনা

সংসদে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাজধানী উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপ দিতে বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, নির্মাণকাজে নজরদারি এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকামুখী জনস্রোত কমাতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষ রাজধানীমুখী হচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প, শিক্ষা ও চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিক মূল্যায়ন

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে এর সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর তদারকির ওপর।

তবে সরকারের দাবি,এটি শুধু সামাজিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে চাঙা করার একটি পরিকল্পিত বিনিয়োগ।