হাম-রুবেলা টিকায় ৯৪ লাখ শিশু, সীমান্তে অপরাধ দমনে বড় অগ্রগতি

টিকাদান কর্মসূচি চলমান; বিজিবির সাফল্যে কমেছে সীমান্ত হত্যা, বাড়ছে জ্বালানি মজুত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশ্বাস।

টুইট প্রতিবেদক: দেশব্যাপী চলমান হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ৯৪ লাখের বেশি শিশু টিকার আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ফলে গত দুই মাসে সীমান্ত নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় অপরাধী গ্রেপ্তার বেড়েছে প্রায় ৭০০ শতাংশ, সীমান্ত হত্যা কমেছে ৭৫ শতাংশ এবং মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দের হার বেড়েছে ৪০ শতাংশ।

একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল পাচার রোধ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি সাফল্য নির্দেশ করে।

মানব পাচার প্রতিরোধেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ জোরদার করায় এ খাতে উন্নতি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ২৬ এপ্রিল দেশে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫২ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৪৮৭ মেগাওয়াট।

এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৬৫ মেগাওয়াট, যার ফলে কিছু এলাকায় লোডশেডিং হয়েছে; সবচেয়ে বেশি তিন ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে।

এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

প্রাথমিক ধাপ শেষে আগামী আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ উৎপাদনে আসবে। দুটি ইউনিট চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ হবে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ এর সুফল পাবে।

জ্বালানি মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৪ টন ডিজেল মজুত রয়েছে এবং আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল যুক্ত হবে।

অন্যান্য জ্বালানিতেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।