ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে পারল না ইরানের প্রস্তাব

পরমাণু ইস্যুতে গুরুত্ব না থাকায় অসন্তোষ, নতুন করে আলোচনা অনিশ্চিত।

টুইট ডেস্ক: ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে পারল না ইরানের প্রস্তাবযুদ্ধ বন্ধ এবং পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে ইরান নতুন যে তিন স্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। পরমাণু কর্মসূচিকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রস্তাবটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ওয়াশিংটনের।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প নতুন প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে নেননি। তার মতে, মূল বিরোধের কেন্দ্রে থাকা পরমাণু প্রকল্পকে পিছনের সারিতে রাখা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ নিয়ে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে।

তিন ধাপে ইরানের প্রস্তাব

ইরানের প্রস্তাবের প্রথম ধাপে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ইরান ও লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে।

দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা প্রস্তাব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রুটকে কেন্দ্র করে সমঝোতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।

তৃতীয় ধাপে, প্রথম দুই পর্যায়ে সমাধান এলে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন উদ্যোগ

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো চুক্তি হয়নি। ওই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর উত্তেজনা প্রশমনে নতুন এই প্রস্তাব দেয় ইরান, যা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা সংলাপে ফিরতে চাইলে এই নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা এগোতে পারে।

অনিশ্চয়তায় পরবর্তী সংলাপ

তবে ট্রাম্পের অসন্তোষ নতুন আলোচনার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচিকে তৃতীয় ধাপে সরিয়ে নেওয়া ইরানের কৌশলগত অবস্থান হলেও ওয়াশিংটন এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না।

ফলে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক

সমঝোতার পথ আপাতত আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের অবস্থান নরম না হলে দ্বিতীয় দফা সংলাপ নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটছে না।