কাস্টমসে দুর্নীতি বন্ধে কড়া বার্তা ব্যবসায়ীদের

ঘুষ বন্ধ হলে রাজস্ব বাড়বে,এনবিআরকে আশ্বাস; প্রাক-বাজেট বৈঠকে কর, ভ্যাট ও বন্ড অপব্যবহার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক।

টুইট প্রতিবেদক: রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম স্পর্শকাতর খাত কাস্টমসে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।

তাদের বক্তব্য, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি বন্ধ করা গেলে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব চাইবে, তা দিতে তারা প্রস্তুত,কোনো ছাড়ের দাবি থাকবে না।

রাজধানীর রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে পণ্য খালাসের সময় ঘুষ, অযৌক্তিক অডিট এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল ও লিনেন প্রস্তুতকারক-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এম শাহদাত হোসেন বলেন, ভ্যাট, বন্ড ও কর অডিটের নামে ব্যবসায়ীদের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ‘অডিট আতঙ্ক’ দূর না হলে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে।

বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রতিনিধিরা একাধিক কর-সংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের ওপর দ্বৈত ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার, বায়িং হাউসের স্যাম্পল পণ্যে কর অব্যাহতি এবং প্রণোদনার ওপর কর বাতিলের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।

ব্যবসায়ীরা প্রণোদনার ওপর করকে ‘খয়রাতি অর্থে কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের অভিযোগ স্বীকার করলেও পাল্টা সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, অতীতে দেওয়া বিভিন্ন কর সুবিধার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে, বিশেষ করে বন্ড সুবিধা।

এই অপব্যবহার দেশের শিল্পায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই নতুন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ ছাড়া বিকল্প নেই। দেশে বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী থাকলেও অনেকেই নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন না। তাদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজীকৃত ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, নীতি সহায়তা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয়ের পথই প্রশস্ত করবে।