উলাশী খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পাঁচ দশক পর ঐতিহাসিক খাল পুনরুজ্জীবন, উন্নয়ন প্রত্যাশায় যশোরবাসী

টুইট ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশক পর যশোরে এক ঐতিহাসিক কর্মসূচির সাক্ষী হতে যাচ্ছে স্থানীয়রা। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান যেই উলাশী-যদুনাথপুর খালের খনন কাজ নিজ হাতে উদ্বোধন করেছিলেন, সেই খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করতে আগামী সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে যশোর মেডিকেল কলেজে পাঁচশ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন এবং যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে যশোরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।

ঐতিহাসিক খালের পুনর্জীবন

১৯৭৬ সালে সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের মাধ্যমে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয়েছিল, যা কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় খালটি পরবর্তীতে ভরাট হয়ে যায়।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি ও পরিবেশগত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসনও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে।

যশোরবাসীর উন্নয়ন দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিক উন্নয়ন দাবি উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে যশোর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়ন।

স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যশোর দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, আগামী সোমবারের এই সফরকে কেন্দ্র করে যশোরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।