হাদি হত্যা: অস্ত্রের উৎসে ধরা হেলাল, ৩ দিনের রিমান্ড

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কেনা পিস্তল কীভাবে পৌঁছাল খুনিদের হাতে,জিজ্ঞাসাবাদে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীর বহুল আলোচিত শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুল হক ওরফে হেলালকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত, যা তদন্তে নতুন দিক উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি হলেও আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয় এবং মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে এর সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
২০১৭ সালে আমদানি করা অস্ত্রটি রাজধানীর একটি অস্ত্রের দোকান থেকে পর্যায়ক্রমে বিক্রি হয়ে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’-এর মালিক হেলালের কাছে পৌঁছায়।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো,হেলালের অস্ত্রের লাইসেন্স ২০১৪ সালের পর আর নবায়ন করা হয়নি। তবুও তিনি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় অস্ত্রটি ক্রয় করেন।
এরপর কীভাবে সেই পিস্তল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আসামিদের হাতে গেল, সেটিই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন।
পুলিশ বলছে, এই রহস্য উদ্ঘাটনে হেলালকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
রিমান্ডে তার কাছ থেকে অস্ত্র সরবরাহ চক্র, সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী এবং পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে পল্টন এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি প্রথমে হত্যাচেষ্টা হিসেবে শুরু হলেও হাদির মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, অস্ত্রের উৎস উদ্ঘাটনই পুরো হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য উন্মোচনের চাবিকাঠি হতে পারে।






