লুটপাটে সচল অর্থনীতি, চাপে সাধারণ মানুষ

ক্ষমতাসীনদের নীতি ও পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির বিস্তার—বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, অবিলম্বে সংস্কার না হলে ঝুঁকিতে সামষ্টিক স্থিতি।
টুইট প্রতিবেদক: দেশের অর্থনীতি ক্রমশ এমন এক কাঠামোর দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে উৎপাদনশীল খাতের পরিবর্তে লুটপাট ও অনিয়মই প্রবৃদ্ধির অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে,এমনই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের নীতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহির অভাবে এই ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি, প্রকল্প ব্যয়ে অস্বাভাবিক ফুলে ওঠা বরাদ্দ এবং সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম,সব মিলিয়ে অর্থনীতির ভেতরে এক ধরনের অদৃশ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে প্রকৃত উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যেতে পারে।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে, যা সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা অস্বাভাবিক হারে বাড়বে।
ইতোমধ্যে কিছু মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়ক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হবে।
এদিকে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন জোরদার করলেই কেবল অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরানো যাবে।
সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই,এমনটাই মত সংশ্লিষ্টদের।






