তিন দশকের বিতর্কিত মৃত্যু: সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্তে আবারও সময়

সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা হয়নি, আদালতের নতুন দিন নির্ধারণ।
টুইট প্রতিবেদক: চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ আবারও পেছাল। তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হক ও খলনায়ক ডন–সহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ৯ এপ্রিল।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আদালত এ দিন নির্ধারণ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ জানান, এদিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন: লতিফা হক লুছি (সামীরা হকের মা), ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ মোট ১১ জন।
অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা: আইনি মোড়, গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশের পর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী–এর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। আদালত বিষয়টি তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও নতুন মোড়: সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। দীর্ঘ ১১ বছর পর, ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানেও মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়।
পরবর্তীতে কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর মা নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন।
সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। তবে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হলে মামলাটি আবার সচল হয়।
তিন দশকের প্রশ্ন
বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহর অকাল মৃত্যু নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে বিতর্ক, তদন্ত ও আইনি লড়াই চলছে। সময়ের পরিক্রমায় একাধিক তদন্ত সংস্থা, আদালত ও বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান এই মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছে। তবুও প্রশ্ন ও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।
নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে এই বহুল আলোচিত মামলা। আগামী ৯ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে মামলার অগ্রগতিতে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।






