ফরিদপুরে ধানক্ষেতে হাত-পা বাঁধা যুবক, দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত

পূর্বশত্রুতার জেরে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ; ভাঙা হাত-পা ও গুরুতর চোখের আঘাত নিয়ে ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি।
টুইট প্রতিবেদক: ফরিদপুরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ধানক্ষেত থেকে দেলোয়ার হোসেন (৩৯) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তার দুই চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের নারায়ণপুর বাইটকুমারী বিলের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। দেলোয়ার ওই ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলোয়ার দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেন। পরে তার দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করে হাত-পা বেঁধে রাতের আঁধারে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যান। এতে তার বাম চোখ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেলোয়ারের অভিযোগ, সম্প্রতি তার বসতঘরের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আলমগীর মোল্লার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে গত ২৯ অক্টোবর আলমগীর তাকে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দেন এবং মাথা ফাটিয়ে দেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে মামলা তুলে নিতে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
দেলোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হলে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন। পরে তাকে বাইটকুমারী বিলের পাশের ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও মাজেদ ফকির তাকে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে মাজেদ ফকির, আলমগীর, জাহাঙ্গীর ও শাহিন নামে চার ব্যক্তি তার দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করেন। পরে মৃত ভেবে তাকে বিলের পাড়ে ফেলে রেখে যান বলে দাবি দেলোয়ারের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। তার দাবি, দেলোয়ার একজন পেশাদার চোর এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না। দেলোয়ারের অভিযোগ প্রতিপক্ষের শেখানো বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া বলেন, দেলোয়ার এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে দেলোয়ারকে দেখে এসেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্বজনেরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






