রাজশাহীতে ১২০ জনকে স্বকর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন ও ব্যবসায়িক ভ্রাম্যমাণ গাড়ি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীতে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে ১২০ জন নারী-পুরুষের মধ্যে কম্পিউটার, সেলাই মেশিন ও ব্যবসায়িক ভ্রাম্যমাণ গাড়ি বিতরণ করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। উপকারভোগীদের মধ্যে ১১৫ জন নারী ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নগর ভবনের অষ্টম তলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করেন তিনি।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (সিডকা) ও রাসিকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় ৩১ জনকে কম্পিউটার, ৩৭ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৫২ জনকে ব্যবসায়িক ভ্রাম্যমাণ গাড়ি দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে তরুণ-তরুণীদের নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোক্তাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাসিক প্রশাসক বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় যুব দিবসে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে।

নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

রাসিকের সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ মামুন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, ইউএনডিপি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সুশাসন বিশেষজ্ঞ তানভীর মাহমুদ এবং সিডিসি ফেডারেশনের সভাপতি আয়েশা খাতুন মুক্তি।

এ সময় রাসিকের সচিব সোহেল রানা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপকারভোগী আসমা খাতুন, রেবা খাতুন ও ইয়াসমিন খাতুন জুথি জানান, এসব উপকরণ তাঁদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক বছরে নগরীর ১২০ জন কর্মহীন নারী-পুরুষকে কম্পিউটার ও সেলাই বিষয়ে তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের দক্ষতাকে আয়মূলক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগাতে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের এ উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।