১০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে নতুন কারখানা নির্মাণ করবে প্যাসিফিক জিনস।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) প্যাসিফিক জিনস লিমিটেডের (ইউনিট-১) প্রায় ৩৪ বছর পুরোনো একটি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ভবনে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবনটি ভেঙে সেখানে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বহুতল কারখানা নির্মাণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কারখানা চালু হলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।

টুইট প্রতিবেদক: রোববার (১ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিনসের সব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ৩৫ হাজার শ্রমিক বেকার হওয়ার খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

প্যাসিফিক জিনস কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরোনো ভবনটিতে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আরএসসির বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করা হয়। এতে ভবনটির কাঠামোগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা চিহ্নিত হয়। শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এটি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কর্মরত ৫ হাজার ৩৭১ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর চাকরির অবসানপ্রক্রিয়া গত ৩১ অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের আইনানুগ ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেতন, অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক, বিভিন্ন ভাতা, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির অর্থ, নোটিশের পরিবর্তে প্রদেয় অর্থ, চাকরিকালীন সুবিধা এবং মুনাফাসহ ভবিষ্য তহবিলের অর্থ রয়েছে।

চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া শেষ হলে আরএসসির নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এরপর একই স্থানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বহুতল কারখানা নির্মাণ করা হবে। নতুন কারখানায় আগের শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এদিকে বেপজা জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের মোট সাতটি কারখানা রয়েছে। এর সবকটিতেই উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল কাঠামোগত ঝুঁকির কারণে ইউনিট-১-এর একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে পুরো গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ কিংবা ৩৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর খবর সঠিক নয়।

বেপজা আরও জানিয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি ইপিজেডে বিনিয়োগবান্ধব শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন তথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্যাসিফিক জিনস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা তাঁদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কাঠামোগত ঝুঁকির কারণে একটি পুরোনো ভবনে উৎপাদন বন্ধ করা হলেও গ্রুপের অন্যান্য কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই স্থানে আধুনিক কারখানা নির্মাণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পুরোনো শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।