শেখ হাসিনা ফিরলে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট রাজনীতিও শেষ হবে: সারজিস

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে জনগণের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেছেন এনসিপির এই নেতা। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।
টুইট প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন, এমন গুঞ্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না এনসিপি। তবে তিনি সত্যিই দেশে ফেরার চিন্তা করলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির যতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটুকুরও কবর রচিত হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে দৈনিক পঞ্চগড় খবর পত্রিকার উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী শাসনের পতন হয়েছে। জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও পতনের পর কিছুদিন বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগকে ঘিরে বর্তমানে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলোর অবসান হতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে সারজিস বলেন, মানুষের মধ্যে এখনো তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেই তাদের ক্ষোভের গভীরতা বোঝা যায়।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট গণভবনে শেখ হাসিনা অবস্থান করলে যে পরিস্থিতি তৈরি হতো, ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কোথাও তাঁর উপস্থিতি পাওয়া গেলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম জানান, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হয়েছিল। বর্তমানে সংসদে তারা বিরোধী দলীয় জোট হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে এককভাবে অংশ নেবে। এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। সারজিস জানান, কোনো ধরনের সমঝোতা বা ছাড় দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের প্রার্থী করা হয়নি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বিএনপির সমালোচনা, বিকল্প হিসেবে এনসিপির প্রত্যাশা
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, গত আট মাসে দলটি ক্রমাগত অজনপ্রিয় হয়েছে। দেশে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে, দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং সুশাসনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এসব কারণে জনগণ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপিকে বেছে নেবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। তবে এ নিয়ে সংসদে বিরোধী দলীয় জোটের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।






