বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান না সাইফ

সাফের ২৮ জনের দলে জায়গা না পেয়ে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে অনাগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই গোলরক্ষক; দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার কোচ ডুলির

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার স্বপ্ন নিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী গোলরক্ষক সাইফ কেরাওয়ালা। তবে আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা না পাওয়া এবং সাফের জন্য ঘোষিত ২৮ সদস্যের দলেও সুযোগ না মেলায় বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসা, স্বজন ও ব্যক্তিগত জীবনের কথা বিবেচনা করে ফুটবলকে সর্বোচ্চ সময় দেওয়ার মানসিকতা আর অনুভব করছেন না বলে জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক।

সাইফের ভাষ্য, তাঁর সিদ্ধান্ত হতাশা থেকে নেওয়া নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বাড়ি, পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও ব্যবসা রয়েছে। ফুটবলের জন্য এসব ছেড়ে আসতে হলে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সেই ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় আবেগ ও আগ্রহ এখন আর অনুভব করছেন না তিনি।

বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাইফ বলেন, সমর্থকেরা খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নিবেদন প্রত্যাশা করেন। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা দিতে না পারলে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের সমর্থকদের ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতেও জাতীয় দলের সাফল্য কামনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মোহামেডানের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা

সাইফ কেরাওয়ালাকে ঘিরে ফুটবলাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মোহামেডানের হয়ে খেলার প্রস্তাবের গুঞ্জন। সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্লাবটির প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় জাতীয় দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার পথ বন্ধ হয়েছে কি না।

আসিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্যাম্পে কয়েক দিন অনুশীলন করেছিলেন সাইফ। তাঁর উচ্চতা ও গোলরক্ষকসুলভ দক্ষতা কোচিং স্টাফের অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তবে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিষয় ও খেলার মানসিকতার প্রশ্নে আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তাঁর।

এবার সাফের ২৮ সদস্যের দলেও জায়গা না পাওয়ায় তাঁর জাতীয় দলে খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে মোহামেডানের প্রস্তাব এবং জাতীয় দলের দল নির্বাচনের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দল নির্বাচন নিয়ে যা বললেন ডুলি

জাতীয় দলের প্রধান কোচ ডুলি দল নির্বাচনে বাইরের কোনো চাপ থাকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, খেলোয়াড় নির্বাচন ও মাঠে নামানোর ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ডুলি বলেন, লিগ, ফেডারেশন কিংবা বাইরের কোনো পক্ষ কখনো তাঁকে বা তাঁর কোচিং স্টাফকে নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। যাঁরা দলে এসেছেন বা খেলেছেন, তাঁদের পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে দল নির্বাচন ও ক্লাবের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। কোচের সিদ্ধান্তই

চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয় কর্মকর্তা ও ম্যানেজারদের পছন্দ-অপছন্দের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সাইফ কেরাওয়ালাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

বাফুফে সভাপতির বক্তব্য

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সঙ্গে মোহামেডানের কোনো যোগসূত্র নেই। সাইফের সঙ্গে ক্লাবটির যোগাযোগ হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন তিনি।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। জাতীয় দলের শিবিরে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে ক্লাবের প্রস্তাব দেওয়া কতটা নৈতিক, সে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু একই সঙ্গে মোহামেডানের ফুটবল দলের দায়িত্বে থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এখনই শেষ নয় জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা

সাইফ কেরাওয়ালার বয়স এখনো ৩০ বছর হয়নি। ফলে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিজের প্রতিষ্ঠিত জীবন ও পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর মধ্যে কোনটিকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেটিই এখন তাঁর সামনে বড় সিদ্ধান্ত

সাইফের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত নন জানিয়ে কোচ ডুলি বলেছেন, তাঁর পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। বাংলাদেশে কিংবা অন্য কোথাও নিচের স্তরের লিগে খেলতে হলেও তাঁকে ব্যবসার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে হতে পারে। সে কারণে ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তাঁর অবস্থান বোঝা যায় বলেও মন্তব্য করেছেন ডুলি।

সব মিলিয়ে, সাইফ কেরাওয়ালার ঘটনাটি শুধু একজন গোলরক্ষকের জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার গল্প নয়; বরং প্রবাসী ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জীবন, জাতীয় দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং দেশের ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।