রামেবি উপাচার্যের পদত্যাগের ঘটনায় নড়েচড়ে উঠেছে রাজশাহী প্রশাসন ও বিএনপি

রামেবি উপাচার্যকে ঘিরে ঘটনায় তৎপর রাজশাহী বিএনপি। পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ৩; ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তৎপর হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি। আজ উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসেন প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভূমিমন্ত্রী জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। এ সময় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৬ অক্টোবর রামেবি উপাচার্যের কার্যালয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে তাঁকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ ওঠে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকেও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন এবং জড়িত কেউ বিএনপির হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
ঘটনার পর রামেবির ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রথমে রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। মামলার বাদী ও দুই সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তদন্তের অংশ হিসেবে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সময় ক্যাম্পাসের সার্বিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসেন প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। কক্ষের তালা খোলার সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লেমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে রামেবি উপাচার্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা বেড়েছে। একদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এগিয়ে চলছে, অন্যদিকে উপাচার্যের নিরাপত্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ৬ অক্টোবরের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিল এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা কী—তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল না করে রামেবি উপাচার্যের পদত্যাগ-সংক্রান্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও জড়িতদের ভূমিকা স্পষ্ট করা জরুরি। একই সঙ্গে উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং একই সঙ্গে রামেবির প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রধান লক্ষ্য।







