বাংলাদেশে লুফথানসার বিনিয়োগ চায় সরকার

এভিয়েশন হাব গড়তে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহ; দক্ষ জনবল তৈরিতেও জার্মান সহযোগিতা চায় ঢাকা

টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উড়োজাহাজ চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জার্মানির উড়োজাহাজ সংস্থা লুফথানসার কাছ থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ চায় সরকার। বিশেষ করে দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে সংস্থাটির কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। লুফথানসাকে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা উড়োজাহাজ সংস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে এগিয়ে নিতে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারকেন্দ্র স্থাপনে লুফথানসার বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দেশের অভ্যন্তরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তুলতেও লুফথানসার সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এমন একটি কেন্দ্র গড়ে উঠলে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সেবায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশে আসা পণ্যবাহী চালান ও ডাকের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া ‘উচ্চ ঝুঁকির পণ্যবাহী চালান ও ডাক’ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই মর্যাদা বহাল রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের ওপর থাকা উচ্চ ঝুঁকির মর্যাদা প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রী জানান, বিমানের জন্য ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। তবে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এগিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। ২০৩০ সালের আগেই এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল, নিরাপত্তা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ,এই চারটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। লুফথানসার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।