রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্তা, জোর করে সই

‘পদত্যাগপত্র’ মনে করে কাগজে স্বাক্ষর, কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিভিন্ন দপ্তরে তালা দেওয়ার অভিযোগ।
টুইট প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর কার্যালয়ে হেনস্তা করে জোরপূর্বক একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপাচার্যের দাবি, কাগজটি তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি; সেটি পদত্যাগপত্র বলে তাঁর ধারণা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
উপাচার্য জানান, ‘রাজশাহী আপামর ছাত্রজনতা’র ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে তাঁকে ঘেরাও করে। এ সময় তাঁকে চেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হয় এবং একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। স্বাক্ষর না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কাগজটিতে সই করেন বলে জানান।
অধ্যাপক জাওয়াদুল হক বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তাঁকেও কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মুঠোফোনও কিছু সময়ের জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার পর কার্যালয় থেকে কম্পিউটারের মূল যন্ত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন উপাচার্য। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা, বেতার ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সংযোগ নষ্ট করা এবং রেজিস্ট্রার, উপ-রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুজ্জামান শামীমের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে যায়। তাঁদের সঙ্গে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন স্থানীয় নেতাও ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে শরফুজ্জামান শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে যাননি। তাঁর দাবি, উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তাঁকে জানানোই তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, মব তৈরি করে কেউ বিশৃঙ্খলা করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে সাংগঠনিকভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক জাওয়াদুল হক ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে এর আগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে একটি পক্ষ। এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন উপাচার্য।
ঘটনার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে চলমান পরীক্ষা, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
এদিকে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও অর্থ বিভাগের শাখা কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তাঁর জামার বোতাম ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উপাচার্য জানিয়েছেন, কার্যালয়ে ভাঙচুর, মালামাল সরিয়ে নেওয়া ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘেরাও, জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া এবং প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং স্বাক্ষর নেওয়া কাগজটির প্রকৃতি কী,তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।






