মাদকসেবী অপবাদে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় দুই কিশোরের সঙ্গে বিরোধ, জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা
টুইট প্রতিবেদক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহম্মদকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে।
গত ১১ জুন রাতে উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদ্রাসা এলাকার সড়কে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ১০ থেকে ১২ জন কিশোর ফয়েজ আহম্মদকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা পিবিআই গত শনিবার রাতে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর। তারা দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
রোববার দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজ আহম্মদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে মাদকসেবী হিসেবে অপবাদ দিয়ে দলবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় মাদক সেবন নিয়ে ওই কিশোরদের সঙ্গে ফয়েজের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।
এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় মামলা হয়। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন মামলাটি তদন্ত করছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার।
ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়, বরং কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবেও সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের পাশাপাশি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।






