দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, বাড়ছে দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ

নতুন পর্ষদে মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। উজমা ও আহসান চেয়ারম্যান হওয়ার পর মেঘনা-মিডল্যান্ডে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৭১ কোটি টাকা।

স্টাফ রিপোর্টার: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মেঘনা ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের পর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ভাই-বোন—উজমা চৌধুরী ও আহসান খান চৌধুরী। নতুন নেতৃত্বের সময়ে দুই ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা মেঘনা ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন উজমা চৌধুরী। ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মন্ত্রী আশিকুর রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এরপর ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উজমা চৌধুরী।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উজমা চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৫৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার সময় মিডল্যান্ড ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন আহসান খান চৌধুরী। ব্যাংকটি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সর্বশেষ তার স্ত্রী নিলুফার জাফরউল্লাহ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ব্যাংকের সভায় অনুপস্থিত থাকতে শুরু করেন। পরে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ব্যাংকের ১৬৫তম সভায় আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আহসান খান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৩৯ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান উজমা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমানের নম্বরেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়।

মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী ও এমডি ইমতিয়াজ ইউ আহমেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টদের মতে, একই পরিবারের দুই ভাই-বোনের দেশের দুটি তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার ঘটনা বিরল। তাদের ভাষ্য, পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোতে ঋণ অনুমোদন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে ব্যাংক দুটির ঋণপোর্টফোলিও, শ্রেণিকরণ ও আদায় পরিস্থিতি পৃথকভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সূত্র: আমার দেশ